গবেষকের দল গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছে, এই পুরস্কার কর্মজীবনে যে শুধু ভাল প্রভাব ফেলে, একেবারেই তা নয়। সেই সঙ্গে নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। পুরস্কৃত হওয়ার পর সেই নির্দিষ্ট গবেষণায় বা বিজ্ঞানের প্রতি তাঁদের আগ্রহ কমতে থাকে। আর তার ফলে সেই প্রভাব পড়ে বিজ্ঞানের উপর।
নোবেল পুরস্কার। কথাটা শুনলেই মনে হয়, কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সেরার সেরা পুরস্কার। এক কথায় বিশ্বসেরার তকমা। বহু সাধ্য-সাধনা, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের ফল। আর এই নোবেল পুরস্কার জিততে কী লাগে জানেন? ধৈর্য্য। এই একটা জিনিসই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজের নামে একটা নোবেল পুরস্কার অর্জন করতে।
নোবেল পুরস্কার
বিচারকদের স্বীকৃতি পেতে অনেক সময় বিজ্ঞানীদের কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্যের পুরস্কারগুলো সুইডেনেই দেওয়া হয়। এবার অর্থাৎ 2023-এ পদার্থবিজ্ঞানের জন্য যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, সেই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনজন বিজ্ঞানী।
যারা পরমাণুর ইলেকট্রন নিয়ে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির পিয়েরে অগাস্টিনি, জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অফ কোয়ান্টাম অপটিক্সের ফ্রাঞ্জ ক্রাউস এবং মিউনিখের লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি এবং সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটির অ্যান লুইলি পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই পুরস্কার পেয়েছেন।
বিজ্ঞানের উপর এই পুরস্কার জয়ের প্রভাব কী?
The New York Times-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর বিজয়ীদের জীবনে যে এক বিরাট পরিবর্তন আসে, তা বলার অপেক্ষা থাকে না। বিজয়ীদের বিশ্ব মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। এককথায় বিজ্ঞানীরা তাঁদের এই স্বীকৃতির জন্য কর্মজীবনেও শীর্ষে পৌঁছে যান। কিন্তু বিজ্ঞানের উপর এই পুরস্কার জয়ের প্রভাব কী? এই উত্তর শুধু আপনি নয়, জানতে চান স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজিস্ট (Disease transmission expert) বা মহামারী বিশেষজ্ঞ জন আইওনিডিসও।
The New York Times-এর ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন আইওনিডিস জানান, নোবেলের মতো পুরস্কার কোনও বিজ্ঞানীর খ্যাতির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর প্রশ্ন, এগুলি সত্যিই কি বিজ্ঞানীদের আরও বেশি এগিয়ে যেতে সাহায্য করে? নাকি উল্টে নোবেল পাওয়ার পর গবেষণার ক্ষেত্রে সেই বিজ্ঞানীর অবদান একটু-একটু করে কমতে থাকে? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খেয়েছে বিজ্ঞানী জন আইওনিডিসের মাথাতেও। ফলে সেই বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। বিজ্ঞানী আইওনিডিসের নেতৃত্বে গবেষকের একটি দল রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল, এত বড় পুরস্কার বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যায় কি না, তা পরিমাপ করা।
গবেষকের দল গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছে, এই পুরস্কার কর্মজীবনে যে শুধু ভাল প্রভাব ফেলে, একেবারেই তা নয়। সেই সঙ্গে নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। পুরস্কৃত হওয়ার পর সেই নির্দিষ্ট গবেষণায় বা বিজ্ঞানের প্রতি তাঁদের আগ্রহ কমতে থাকে। আর তার ফলে সেই প্রভাব পড়ে বিজ্ঞানের উপর।
বিপরীত প্রভাব রয়েছে প্রচুর ক্ষেত্রে-
গবেষণায় যে ফল সামনে এসেছে, তা আইওনিডিসকে হতাশ করেছে। The New York Times-কে তিনি জানিয়েছেন, এই পুরস্কার বিজ্ঞানীদের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, এমনটা নয়। এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা খ্যাতি অর্জন করে কর্মজীবনে এগিয়ে গেলেও, কর্মক্ষমতা কমে যায়। আর এমনটা যে শুধু ইদানীংকালে হচ্ছে, তা নয়। 1901 সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এমনটাই হয়ে আসছে। নোবেল ফাউন্ডেশন পদার্থবিদ্যা, চিকিৎসা এবং রসায়নে যুগান্তরকারী সাফল্যের জন্য পুরস্কার প্রদান করেছে। ম্যাক আর্থার ফেলোশিপ 1981 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তারপর থেকেই এর প্রভাব বিজয়ীদের উপর অন্যরকম।
ব্যতিক্রম যে নেই, তা-ও নয়। অনেক বিজ্ঞানীই দু'বার নোবেল পেয়েছেন। এই স্বীকৃতি বা পুরস্কার গবেষকদের কর্মক্ষমতা এবং কাজের প্রতি আনুগত্য বাড়ায়। নোবেল পুরস্কারের মতো এত বড় সম্মান তাঁদের কাজের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহী এবং নিবেদিতপ্রাণ করে তোলে, একথাও অস্বীকার করার উপায় নেই।


0 Comments